
মো.আনোয়ার, ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
আওয়ার এভরিডে এসেনশিয়ালস’ স্লোগানে হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডারস সোসাইটি ঢাকা কলেজ শাখার উদ্যোগে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস পালিত হয়েছে। আজ বুধবার (১০ ডিসেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে ঢাকা কলেজে এক বর্ণাঢ্য র্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।এতে ঢাকা কলেজের শিক্ষকবৃন্দ, হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডারস সোসাইটির কেন্দ্রীয় ও কলেজ শাখার নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক আনোয়ার মাহমুদ এবং প্রধান আলোচক ছিলেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক সিফাত উল্লাহ সিফাত।অধ্যাপক আনোয়ার মাহমুদ বলেন, “আমরা সবাই স্বাধীনভাবে জন্মগ্রহণ করি। জন্মগ্রহণের পর আমাদের বয়স বাড়ার সাথে সাথে কিছু অধিকারও বাড়তে থাকে। আমাদের যেমন রাষ্ট্রের প্রতি অধিকার থাকে, তেমনি রাষ্ট্রও আমাদের প্রতি কিছু অধিকার নিশ্চিত করে থাকে। মানবাধিকার প্রতিনিয়ত, প্রতিমুহূর্তে, প্রতি সেকেন্ডেই প্রয়োজন। আমার অধিকার রক্ষা করার পাশাপাশি অন্যের অধিকারকেও মেনে নেওয়া মানবাধিকারের অংশ।তিনি আরও বলেন, “আমরা যেখানে যে অবস্থাতেই থাকি না কেন, সবসময় মানবতাকে সম্মান করব এবং মানবতাকে নিয়েই বেঁচে থাকব। মানুষ পৃথিবীতে খুব বেশি সময় বাঁচে না, তাই যতদিন বাঁচি, ততদিন যদি মানুষের কল্যাণে, মানুষের অধিকার নিয়ে কিছু অবদান রেখে যেতে পারি, তাহলেই এই পৃথিবীতে আমাদের অবস্থান অমর হয়ে থাকবে।সংগঠনটির কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক সিফাত উল্লাহ সিফাত বলেন, “আমাদের প্রতিদিনের নিত্যপ্রয়োজনীয় অত্যাবশ্যকীয় জিনিসগুলোই আমাদের হিউম্যান রাইটস। মানবাধিকার কেবল আইন বা সংবিধানের কাঠামোতেই সীমাবদ্ধ নয়, আমাদের খাদ্য, অন্ন, বস্ত্র থেকে শুরু করে যত নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস আছে, সবগুলোই আমাদের মানবাধিকার।তিনি বাংলাদেশের ইতিহাসের প্রেক্ষাপট টেনে বলেন,১৯৭১ সালে বৈষম্যের শিকার হওয়ার কারণেই আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছিলাম। সেই স্বাধীনতা ছিল মানবাধিকারকে ভূলুণ্ঠিত করার বিরুদ্ধে একটি সংগ্রাম। দীর্ঘদিন ধরে কীভাবে বাংলাদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে, কীভাবে এক্সট্রা জুডিশিয়াল কিলিং, কীভাবে গুমের শিকার হয়েছে এবং কীভাবে একটি ভয়ের কালচার তৈরি হয়েছিল আমরা তা দেখেছি। আমরা সবাই চাই, বাংলাদেশের সবার মানবাধিকার যেন প্রতিষ্ঠিত হয় এবং এর জন্য আমরা সবসময় সোচ্চার আছি ও লড়াই চালিয়ে যাব।শাখা সভাপতি মুহাম্মদ ওমায়ের বলেন, “আজকের এই র্যালিতে যোগ দিয়ে আমরা কেবল একটি দিবস পালন করছি না বরং আমরা প্রতিজ্ঞা নিচ্ছি যে, আমরা আমাদের সমাজে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে সব সময় সচেতন থাকব এবং দৃঢ়ভাবে এর প্রতিবাদ করব।এছাড়াও আলোচনা সভায় বক্তাগণ আশা প্রকাশ করেন যে, যতদিন পৃথিবী থাকবে ততদিন মানুষের অধিকার থাকবে, মানবাধিকার বেঁচে থাকবে। ঢাকা কলেজের এই উদ্যোগ তরুণদের মধ্যে মানবাধিকার সচেতনতা বৃদ্ধি এবং একটি অধিকারভিত্তিক সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।উল্লেখ্য, মানবাধিকার দিবস বিশ্বের সকল দেশে প্রতি বছর ১০ ডিসেম্বর পালিত হয়। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ কর্তৃক ১৯৪৮ সালের ১০ ডিসেম্বর থেকে দিবসটি উদযাপন করা হয়। এছাড়াও, ‘সার্বজনীন মানব অধিকার সংক্রান্ত ঘোষণাকে’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এ তারিখকে নির্ধারণ করা হয়। সার্বজনীন মানব অধিকার ঘোষণা ছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী নবরূপে সৃষ্ট জাতিসংঘের অন্যতম বৃহৎ অর্জন।