
চট্টগ্রাম জেলায় মিরসরাই উপজেলায় পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের কর্মীদের কর্মবিরতি
হারাধন চক্রবর্তী, স্টাফ রির্পোটার
,মিরসরাই, চট্টগ্রাম :- পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা, পরিবার কল্যাণ সহকারী ও পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শকদের দ্রুত নিয়োগবিধি বাস্তবায়নের দাবিতে কর্ম বিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয় প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ফলে ব্যাহত হচ্ছে স্বাস্থ্য সেবা। দাবি আদায়ে কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে গত ১ ডিসেম্বর থেকে মাসিক রিপোর্ট বন্ধ করে দেয়া হয় এবং ২ থেকে আগামী ১১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কর্মবিরতি কর্মসূচি পালন করছেন । কর্মসূচি অব্যাহত থাকলে আগামী ৬ থেকে ১১ ডিসেম্বর পর্যন্ত পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের জাতীয় সেবা সপ্তাহ ব্যাহত হওয়ার আশংকা রয়েছে। এই কর্মবিরতির মূল কারণ হলো বেতন গ্রেড উন্নয়ন, পদোন্নতি এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়া, কারণ বিদ্যমান নিয়োগবিধি না থাকায় তাদের পদোন্নতির সুযোগ নেই। এই কর্মসূচি শুরু হয়েছে ২ ডিসেম্বর থেকে এবং এতে পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা, পরিবার কল্যাণ সহকারী এবং পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শকরা অংশ নিচ্ছেন।
ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র, মিরসরাই মডেল ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও কল্যাণ কেন্দ্র, মিরসরাই ১০ শয্যা বিশিষ্ট মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র ও হিঙ্গুলী ১০ শয্যা বিশিষ্ট মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এসময় বক্তব্য রাখেন, পরিবার কল্যাণ পরিদর্শক নুরুল ইসলাম, দেব্রবত ভট্টচার্য্য দেবু, মোঃ আলী আকবর, পরিদর্শিকা পিংকী রানী দাশ, পরিবার কল্যাণ সহকারী আনোয়ারা বেগম প্রমুখ।
অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, দেশের স্বাস্থ্যখাতে সবচেয়ে বেশি অবদান রাখছে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরাধীন পরিদর্শক, পরিদর্শিকা ও কল্যাণ সহকারীরা। দেশে শিশু ও মাতৃ মৃত্যুহার কমানো, জন্মনিয়ন্ত্রণসহ বাড়ি বাড়ি গিয়ে স্বাস্থ্য সেবা জনগণের দৌড়গোরায় পৌছে দিচ্ছে । অথচ এখনো অবহেলিত। নিয়োগ বিধি দ্রুত বাস্তবায়ন না হলে ২রা ডিসেম্বর থেকে ১১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কর্ম বিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি পালিত হবে। এছাড়া ৬ ডিসেম্বর থেকে ১১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সেবা সপ্তাহ বর্জন করা হবে।
বক্তারা আরো বলেন, যুদ্ধ পরিবর্তি সময়ে দেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ছিল ৬ দশমিক ৭ শতাংশ। কিন্তু ২০২৩ সালের পরিসংখ্যান অনুসারে দেশে বর্তমানে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ২ দশমিক ১৬ শতাংশ। এছাড়া ১৯৭০ পরবর্তি সময়ে দেশে শিশু মৃত্যুহার ছিল হাজারে ১৬৫ জন। বর্তমানে তা এসে দাঁড়িয়েছে ২৪ দশমিক ৪ জনে। এটি সম্ভব হয়েছে পরিবার কল্যাণ পরিদর্শক, পরিদর্শিকা ও সহকারীদের আন্তরিকার কারণে। তাই দ্রুত নিয়োগ বিধি বাস্তবায়নের দাবি জানান।