
নাটোর সংবাদদাতা মোঃ আলমগীর কবির:
নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার থানাই খাড়া গ্রামে এক গৃহবধূকে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবার বড়াইগ্রাম থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে।ভুক্তভোগী রেজিয়া (৪০), স্বামী বশির সরকার (৫০) বাড়াইগ্রাম উপজেলার থানাই খাড়া গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, গতকাল বিকেলে রেজিয়া বাড়ি থেকে দোকানে যাওয়ার পথে একই গ্রামের সাদ্দাক হোসেন (৪২), পিতা মারফত আলী (৬৫), তাকে একা পেয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণের উদ্দেশ্যে পথরোধ করে। রেজিয়া এতে রাজি না হলে সাদ্দাক হোসেন তার ওপর শারীরিকভাবে হামলা চালায় এবং লাঠি ও সোটা দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করে।ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী, হামলার ফলে তার হাতে ও মাথায় আঘাত লাগে। বর্তমানে তার হাতে আঘাতের দৃশ্যমান চিহ্ন রয়েছে। একপর্যায়ে ঘটনাস্থলে অভিযুক্ত সাদ্দাক হোসেনের ভাই মঞ্জিল (৪৫) ও একই গ্রামের রজব আলীর ছেলে ফজলু (৫০) উপস্থিত হয়ে রেজিয়াকে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিতে থাকে। তারা পুনরায় মারধর করার চেষ্টা করলে স্থানীয়দের উপস্থিতিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।রেজিয়া আরও জানান, অভিযুক্ত সাদ্দাক হোসেন গত কয়েক বছর ধরে তাকে কু-প্রস্তাব ও উত্ত্যক্ত করে আসছিল। বিষয়টি একাধিকবার পরিবার ও স্থানীয়ভাবে জানানো হলেও কোনো স্থায়ী প্রতিকার হয়নি।ভুক্তভোগীর স্বামী বশির সরকার বলেন, “সাদ্দাক হোসেন দীর্ঘদিন ধরে আমার স্ত্রীকে উত্ত্যক্ত করে আসছে, বিষয়টি আমি অবগত ছিলাম। আমি একাধিকবার তাকে সতর্ক ও নিষেধ করেছি। তারপরও সে এই ন্যাক্কারজনক কাজ করেছে। আমার স্ত্রীর শারীরিক ক্ষতি হয়েছে, পাশাপাশি তার মান-সম্মান ক্ষুণ্ন করা হয়েছে। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।এ ঘটনায় নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ আইনে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে বড়াইগ্রাম থানায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।এ বিষয়ে বড়াইগ্রাম থানার একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে এবং বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।স্থানীয়দের মধ্যে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।