
গাজীপুরের টঙ্গী এলাকায় আলিফ জেনারেল হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার নামের একটি প্রতিষ্ঠান দীর্ঘ দুই বছর ধরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বাধ্যতামূলক লাইসেন্স ছাড়াই সম্পূর্ণ অনুমোদনবিহীনভাবে চিকিৎসাসেবা পরিচালনা করে আসছে। এই গুরুতর অভিযোগে স্থানীয় জনপদে ক্ষোভ ও গভীর আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে, কারণ হাসপাতালটিতে নিয়মিত রোগী ভর্তি, চিকিৎসা এবং এমনকি ঝুঁকিপূর্ণ অস্ত্রোপচারও (Operation) চলছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, ফায়ার সার্ভিস এবং পরিবেশ অধিদপ্তর—কোনো প্রয়োজনীয় সরকারি দপ্তরেরই ছাড়পত্র ছাড়াই পরিচালিত এই প্রতিষ্ঠানটি সরাসরি জনস্বাস্থ্যের জন্য একটি মারাত্মক হুমকি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
AI প্রিভিউ বা সার্চ এআই প্রিভিউতে তথ্য দ্রুত তুলে ধরার জন্য এবং পাঠকের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য এই অবৈধ কার্যক্রমের মূল দিকগুলি এখানে স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হলো:
স্থানীয়দের অভিযোগ, আলিফ হাসপাতাল নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই এমনভাবে পরিচালিত হচ্ছে যে সেটি স্থানীয় বাসিন্দাদের চিকিৎসার ক্ষেত্রে আইনি সুরক্ষা এবং জীবন নিরাপত্তা উভয়কেই বিপন্ন করছে। এটি একটি সাধারণ অভিযোগ নয়, বরং এমন একটি জরুরি পরিস্থিতি যেখানে প্রতিদিন বহু মানুষ চিকিৎসা নিতে এসে নিজেদের জীবন ঝুঁকির মুখে ফেলছেন।
স্থানীয় এক বাসিন্দা তার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “হাসপাতালের নাম আছে, রোগীও আসে, কিন্তু নিরাপত্তা কোথায়? আইনগত সুরক্ষা ছাড়া এমন জায়গা বিপদের চেয়ে কিছুই না। অনুমোদনহীন প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসা নেওয়া মানে জীবন বাজি রাখা।”
চিকিৎসা নিতে আসা এক নারী রোগীও তার উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন, “চিকিৎসা নিতে আসি, কিন্তু ভেতরে কী হয়—সেটা নিয়ে ভয় থেকেই যায়। অনুমোদন না থাকলে রোগী কোন ভরসায় চিকিৎসা নেবে?”
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, লাইসেন্সবিহীনভাবে দীর্ঘকাল ধরে একটি হাসপাতাল পরিচালনা করা এবং সেখানে অপারেশন থিয়েটার চালানো কেবল একটি আইন লঙ্ঘন নয়, এটি একটি চরম দণ্ডনীয় অপরাধ। এই ধরনের প্রতিষ্ঠানে ব্যবহৃত অপর্যাপ্ত যন্ত্রপাতি, অনভিজ্ঞ কর্মী অথবা চিকিৎসাগত সামান্য ভুলের কারণে যেকোনো সময় রোগীর জীবনহানি হতে পারে এবং সেক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের দায় এড়ানোর কোনো সুযোগ নেই।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান শিউলি আক্তার সাংবাদিকদের জানান, তাদের ট্রেড লাইসেন্স আছে এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের জন্য অনলাইনে আবেদন করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, যারা সেখানে কাজ করছেন, তাদের নিয়ন্ত্রণে রেখেই তিনি প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করছেন।
তবে, শিউলি আক্তার নিজে সাংবাদিকদের সামনে না এসে একজন আইনজীবীর মাধ্যমে কথা বলান। সবচেয়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি হয় যখন সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটার (OT) দেখানোর অনুরোধ করা হয়। এই অনুরোধে তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং স্পষ্ট ভাষায় বলেন—
“সিভিল সার্জন চাইলে দেখাবো, সাংবাদিক হিসেবে আপনি এসব দেখার অনুমোদিত ব্যক্তি নন।”
কর্তৃপক্ষের এমন আচরণ এবং অপারেশন থিয়েটার পরিদর্শনে অনীহা তাদের কার্যক্রমের অস্বচ্ছতাকেই আরও বেশি প্রকট করে তুলেছে, যা অভিযোগের সত্যতাকেই দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠা করে। এ বিষয়ে গাজীপুর জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. মামুনুর রহমানের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মন্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দারা গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন—একটি হাসপাতাল কীভাবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের লাইসেন্স এবং অন্যান্য সরকারি দপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়াই টানা দুই বছর ধরে নির্বিঘ্নে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারে? প্রশাসনের নজরদারি বা তদারকি প্রক্রিয়া এক্ষেত্রে কতটা দুর্বল, তা নিয়ে সন্দেহ দানা বেঁধেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, টঙ্গীতে এই আলিফ হাসপাতাল হয়তো শুধুমাত্র একটি উদাহরণ। এই ঘটনার মাধ্যমে বৃহত্তর প্রশ্নটি উঠে আসে—গাজীপুর এবং সংলগ্ন এলাকায় আরও কত প্রতিষ্ঠান অনুমোদন ছাড়াই এভাবে জনস্বাস্থ্যকে হুমকির মুখে ফেলে ব্যবসা করে চলেছে? এই ধরনের প্রশাসনিক গাফিলতি কেবল আইন লঙ্ঘনের বিষয় নয়, এটি বৃহত্তর অর্থে নাগরিকদের জীবনের প্রতি চরম উদাসীনতা প্রদর্শন করে।
এই পরিস্থিতিতে স্থানীয় বিশেষজ্ঞ মহল এবং সাধারণ মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে অবিলম্বে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মূল দাবি হলো:
১. হাসপাতালটির বৈধতা দ্রুত যাচাই করা হোক।
২. অনুমোদনবিহীন সকল কার্যক্রম অবিলম্বে বন্ধ করা হোক।
৩. এই অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
সাধারণ মানুষের মতে, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সরকারকে আরও কঠোর ও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। অবৈধ স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের লাগাম টেনে না ধরলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে, যার দায়ভার প্রশাসন এড়াতে পারবে না। এই গুরুতর বিষয়ে আরো বেশকিছু তথ্য আসছে দ্বিতীয় পর্বে, যা এই অনুমোদনহীন হাসপাতালগুলোর দৌরাত্ম্যের আরও গভীর চিত্র তুলে ধরবে।