
বিশেষ প্রতিবেদক,কক্সবাজার:
কক্সবাজার সদরে মৎস্য হ্যাচারি থেকে মাছ চুরির অভিযোগে আলী আকবর নামের এক যুবককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে এনসিপির স্থানীয় নেতাসহ চারজনকে আটক করেছে পুলিশ।
সোমবার (৫ মে) এসব ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে পুলিশ। এর আগে রোববার মধ্যরাতে কক্সবাজার সদর উপজেলার খুরুশকুল ইউনিয়নের আল্লাহ ওয়ালা নামে একটি মৎস্য হ্যাচারিতে এ ঘটনা ঘটে।
আলী আকবর কক্সবাজার সদরের খুরুশকুল ইউনিয়নের কুলিয়া পাড়ার বাসিন্দা আলী আহমদের ছেলে। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, যুবককে বাড়ি থেকে তুলে এনে মাছ চুরির মিথ্যা অপবাদ দিয়ে পিটিয়ে খুন করা হয়েছে।
আটককৃতরা হলেন, ১. রাইয়ান কাশেম, ২. তার চাচা তানভীর কাশেম ৩. মোহাম্মদ হোসাইন(হ্যাচারির নৈশ প্রহরী) ও ৪. মো. মিজান(হ্যাচারির নৈশ প্রহরী)। রাইয়ান কাশেম বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির কক্সবাজারের সক্রিয় নেতা। রাইয়ান এবি পার্টির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর কাশেমের ছেলে।
তাদের দাবি, আল্লাহ ওয়ালা হ্যাচারিতে চুরির সময় ধরা পড়ে ওই যুবক। পরে হ্যাচারির নৈশ প্রহরীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করলে আত্মরক্ষার্থে নৈশ প্রহরী ও তাকে হাতে থাকা লাঠি দিয়ে হামলা করে, এতে নৈশ প্রহরী আঘাতে ওই যুবক মারা যায়।
ঘটনাটি জানা জানি হওয়ার পর রাত ১টায় লাশ উদ্ধারের সময় এলাকা বাসীর মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করে। পরে উত্তেজিত জনতা হ্যাচারির মালিকের ছেলে রাইয়ান কাশেমকে ব্যাপক মারধর করে। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।
তবে হামলার আগে সংবাদ মাধ্যমে এনসিপি নেতা রাইয়ান কাশেম বলেন, তাদের হ্যাচারিতে চুরির করার সময় আলী আকবরকে হাতে নাতে ধরে নিরাপত্তা প্রহরীরা। পরে আলী আকবর আঘাত করলে আত্মরক্ষার্থে নিরাপত্তা প্রহরীরা পাল্টা আঘাত করে। এতে মারা যান তিনি।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইলিয়াস খান জানান, এই ঘটনায় তাৎক্ষণিক রাইয়ান কাশেম, তানভীর কাশেম, হোসাইন ও মিজান নামের চারজনকে আটক করা হয়। তদন্ত সাপেক্ষে ঘটনার সাথে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে। রাতেই লাশ উদ্ধার করে হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
ওসি ইলিয়াস খান বলেন, এনসিপি নেতা রাইয়ান কাশেমকে জনরোষ থেকে রক্ষা করার জন্য পুলিশ হেফাজতে ঘটনা স্থল থেকে নিয়ে এসে হাসপাতালে পাঠানো হয়। তার বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পেলে মামলায় আসামি করা হবে।