
নাটোরে বড়াইগ্রাম উপজেলা প্রতিনিধি মো: আজাদুল ইসলাম
“মা” — এই শব্দটি যতটা মমতাময়, ততটাই নির্মমভাবে এই শব্দটিকে কলঙ্কিত করেছে বড়াইগ্রামের নগর গ্রামের এক ছেলে। একবিংশ শতাব্দীর সমাজে দাঁড়িয়ে যখন একজন সন্তান নিজের জন্মদাত্রী মাকে গরুর রশি দিয়ে হাত-পা বেঁধে হত্যার চেষ্টা করে, তখন প্রশ্ন ওঠে—আমরা কোন পথে চলছি?
নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার নগর গ্রামে গত বুধবার (১৮ জুন) বিকাল ৪টায় ঘটেছে এমনই এক বিভৎস, মর্মন্তুদ ঘটনা। অভিযুক্ত মোঃ রনি তার মা মোছা. রেহানা বেগমকে গরুর রশি দিয়ে বেঁধে নির্মমভাবে মারধর করে। অভিযোগ উঠেছে, রান্না করা মাংস না দেওয়াকে কেন্দ্র করেই এই অমানবিকতার শুরু।
এখানেই থেমে থাকেনি বর্বরতা—ঘটনায় রনির স্ত্রী জান্নাতুল, পিতা আব্দুর রাজ্জাক ও কাকা মিন্টু হোসেন সক্রিয়ভাবে সহায়তা করে বলে স্থানীয়রা জানান। প্রত্যক্ষদর্শী জিয়ারুল, পিতা জয়নাল আবেদীন, বলেন, “আমি বাড়ির ভেতর থেকে চিৎকার শুনে দৌড়ে গিয়ে দেখি রনি তার মাকে রশি দিয়ে বেঁধে পেটাচ্ছে। নিজের হাতে তার বাঁধন খুলে তাকে উদ্ধার করি।”
বর্তমানে রেহানা বেগম বড়াইগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। মারধরের কারণে তার ডান চোখ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তার শরীরে দেখা গেছে অগণিত আঘাতের চিহ্ন।
ভুক্তভোগী মা বলেন, “ছেলে বিয়ের পর থেকেই আমাকে মানসিক ও শারীরিকভাবে নির্যাতন করে আসছে। আজ আমার অপরাধ—আমি তাকে মাংস দেইনি। সেই অপরাধে আমাকে গলা টিপে মারার চেষ্টা করেছে।”
ঘটনার পর পুরো এলাকাজুড়ে নেমে এসেছে আতঙ্ক আর তীব্র ক্ষোভ। সাধারণ মানুষ বলছে, “যে সন্তান মাকে এমনভাবে নির্যাতন করতে পারে, তার যেন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হয়—এটাই আমাদের দাবি।”
মানবাধিকারকর্মীদেরও প্রতিক্রিয়া তীব্র
কম্বাইন্ড হিউম্যান রাইটস্ ওয়ার্ল্ড নাটোর আঞ্চলিক শাখার সাধারণ সম্পাদক ওসমান গনি বলেন, “একজন মা সন্তানের কাছে যদি নিরাপদ না থাকেন, তবে সমাজের আর কোনো স্তরই নিরাপদ নয়। এই ঘটনাটি মানবাধিকারের লঙ্ঘনের চূড়ান্ত উদাহরণ। আমরা দ্রুত প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”
জনমতের দাবি:
ঘটনার দ্রুত তদন্ত
অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার
মা-বাবার নিরাপত্তা আইনের বাস্তব প্রয়োগ
সেনাবাহিনীর মাধ্যমে এলাকায় নজরদারি জোরদার
—
এই সমাজ কি পারবে সেই ‘মা’কে আবার নিরাপদ আশ্রয় দিতে?
আপনার চোখে যদি এক ফোঁটা জল আসে এই প্রতিবেদনে, তবে নিশ্চিত করুন—এই নৃশংসতা যেন আর কখনও না ঘটে।