
বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটে প্যারালাইজ বৃদ্ধ মৃ ত্যু, ঘরবাড়ি ও গবাদিপশুর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির
গত ০২/১২/২০২৫ ইং আনুমানিক সন্ধ্যা ৬: ৩০ মিনিট হতে সাতটার মধ্যে গ্রামে এলাকায় গ্রাম মহারাজপুর (গুচ্ছগ্রাম)ইউনিয়ন মাহামুদপুর হঠাৎ ঘটে যাওয়া বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট মুহূর্তের মধ্যে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের রূপ নেয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাড়ির পুরোনো তার, ঢিলা সংযোগ, নিম্নমানের মালামাল এবং অতিরিক্ত লোড পড়ার কারণে এ ধরনের শর্ট সার্কিট ঘটে থাকে। আগুন লাগার পর খুব দ্রুত চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে, ফলে মানুষ অনেক সময় প্রস্তুত হওয়ার সুযোগই পায় না।
এই ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের ঘরবাড়ি মুহূর্তের মধ্যে ভস্মীভূত হয়ে যায়। মানুষের বছরের পর বছরের সঞ্চয়, আসবাবপত্র, পোশাক, নথিপত্র—সবকিছু ধ্বংস হয়ে একেবারে ছাই হয়ে যায়। ঘরে থাকা গরু, ছাগলসহ অন্যান্য গবাদিপশুরাও আগুনের তীব্রতা থেকে রক্ষা পেতে পারে না। একজন বয়স্ক বৃদ্ধার অসুস্থ জনিত কারণে বাহির করতে না পারায় আগুনে পুড়িয়ে যায়। বাঁধা থাকা প্রাণীগুলো পালানোর সুযোগ না পাওয়ায় আগুনে পুড়ে মারা যায় অনেকে গুরুতর আহত হয়। এতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার শুধু আর্থিক ক্ষতিতেই নয়, মানসিকভাবেও বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে।
সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো—এই ধরনের দুর্ঘটনায় অনেক সময় বৃদ্ধ মানুষ বা চলাফেরায় অক্ষম লোকজন আগুন থেকে বের হতে না পেরে প্রাণ হারান। তারা দ্রুত সরে যাওয়ার মতো শারীরিক সক্ষমতা না থাকায় আগুনের ধোঁয়া ও তাপ তাদের জীবন কেড়ে নেয়। পরিবারের অন্যরা চেষ্টা করলেও আগুনের তীব্রতা তাদের উদ্ধারকাজ কঠিন করে তোলে।
ফায়ার সার্ভিস সময়মতো ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও অনেক ক্ষেত্রে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে দেরি হয়ে যায়। স্থানীয় লোকজন নিজেরা পানি, বালতি, বালু দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করে, কিন্তু বড় আগুনে তা যথেষ্ট হয় না। শেষে পুরো এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়।
এই ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলো নিঃস্ব হয়ে পড়ে। আশেপাশের মানুষ সহযোগিতায় এগিয়ে এলেও ক্ষতি পূরণ করতে দীর্ঘ সময় লেগে যায়। নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ভূমি সহকারী কমিশনার পরিদর্শন করেন এবং আর্থিক অনুদান দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত বৈদ্যুতিক লাইন পরীক্ষা, সুইচ-বোর্ড ও তার পরিবর্তন, সার্কিট ব্রেকার ব্যবহার, নিম্নমানের মালামাল বর্জন এবং সতর্কতা এই ধরনের দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমিয়ে আনতে পারে।
নবাবগঞ্জ প্রতিনিধি,
নবাবগঞ্জ, দিনাজপুর।