
বিশেষ প্রতিনিধি মোঃ আসাদুজ্জামান।
বিগত তিনটি জাতীয় নির্বাচনকে একতরফা ও জালিয়াতিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করে ওই নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তাদের বাদ দেওয়ার পরিকল্পনা করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকেও ইসিকে কর্মকর্তারা বাদ দেওয়া যায় কি না তা খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পদক্ষেপ সুষ্ঠু নির্বাচনের পথে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।
ইসিতে রদবদল ও কর্মকর্তাদের বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া
অন্তর্বর্তী সরকার থেকে ইসিকে বিগত তিনটি নির্বাচনের সঙ্গে জড়িত প্রায় ১৩ লাখ কর্মকর্তার বিষয়ে খোঁজ নিতে বলা হয়েছে। এই পদক্ষেপের কারণ হলো, বিগত নির্বাচনগুলোতে অনিয়মের অভিযোগ থাকায় নির্বাচনি ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনা।
নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব আখতার আহমেদ জানান, বিগত তিন নির্বাচনে ন্যূনতম সংশ্লিষ্টতা থাকা কর্মকর্তারা এবার দায়িত্ব থেকে বাদ পড়বেন। তবে রাজনৈতিক পরিচয় ও সংশ্লিষ্টতা বিবেচনা করে এটি একটি সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।
সরকারের নির্দেশে সম্প্রতি ২৯টি জেলায় নতুন জেলা প্রশাসক (ডিসি) নিয়োগ করা হয়েছে। ডিসিরাই রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করবেন। এ ছাড়া, সম্প্রতি ইসি সচিবালয় ও মাঠ পর্যায়ের অনেক কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে।
প্রিসাইডিং ও পোলিং অফিসার: সাধারণত স্কুল শিক্ষক ও ব্যাংক কর্মকর্তারা এই দায়িত্ব পালন করেন। এবার তাদের নিয়োগের ক্ষেত্রেও বড় ধরনের পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের আপত্তির কারণপ্রয়োজনীয় দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিগত নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকারী বিপুল সংখ্যক কর্মকর্তাকে একসঙ্গে বাদ দিলে নতুন প্যানেল প্রস্তুত করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে। নতুন ও অনভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের দিয়ে কাজ চালানো কঠিন হবে এবং সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করা আরও চ্যালেঞ্জিং হয়ে যাবে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, রাজনৈতিক চাপের কারণে ঢালাওভাবে পুরোনো কর্মকর্তাদের বাদ দিলে নতুন নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তারাও কোনো না কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকতে পারেন। এতে নির্বাচনের নিরপেক্ষতা নিয়ে আবারও প্রশ্ন উঠতে পারে।
সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের জন্য দক্ষতার সঙ্গে প্যানেল প্রস্তুত করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের বাদ দিয়ে তাড়াহুড়ো করে নতুন প্যানেল তৈরি করলে তা নিয়ে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হতে পারে।
আগামী নির্বাচনে ভোটগ্রহণের জন্য প্রায় ৮ লাখ কর্মকর্তার প্রয়োজন। বিশেষজ্ঞদের আপত্তির মুখে এবং রাজনৈতিক চাপের কারণে, যোগ্য ও নিরপেক্ষ কর্মকর্তাদের প্যানেল তৈরি করতে ইসিকে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের সব মিলিয়ে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের জন্য ভোটের মাঠ সাজাতে ইসিকে অনেক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে।