
শেখ আহমেদ বুলবুল
শেরপুর: শেরপুর জেলার জি কে পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের শৃঙ্খলা ভঙ্গ, বিদ্যালয়ের অনিয়ম, শিক্ষকদের দায়িত্বহীনতা এবং মনিটরিং কমিটির নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে অভিভাবক ও সচেতন মহলে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। এ বিষয়ে একটি লিখিত স্বারকলিপি জেলা প্রশাসকের নিকট পেশ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা।
স্বারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে চলতি শিক্ষাবর্ষে বিদ্যালয়ের পাঠক্রম, উপস্থিতি ও শিক্ষার্থীদের আচরণ নিয়ন্ত্রণে কর্তৃপক্ষের ব্যর্থতা প্রকট হয়ে উঠেছে। ছাত্র-ছাত্রীদের শৈথিল্যপূর্ণ আচরণ, শিক্ষকদের একাংশের দায়িত্ব পালনে অবহেলা এবং প্রশাসনিক তদারকির অভাবের কারণে শিক্ষা পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
শিক্ষার্থীদের শৃঙ্খলা ভঙ্গ অভিভাবকরা অভিযোগ করেছেন, বিদ্যালয়ের বাইরে–ভিতরে শিক্ষার্থীদের অবাধ চলাফেরা, ক্লাস ফাঁকি, ঝগড়া–বিবাদসহ নানা অসামাজিক আচরণ দিন দিন বাড়ছে। গত ২ জুলাই ২০২৫ তারিখে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির গৃহীত বিভিন্ন সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে কিছু শিক্ষক ও কর্মচারী দায়িত্ব পালন না করায় পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যায়।শিক্ষার্থীদের অনৈতিক কর্মকাণ্ড, পালাক্রমে ক্লাস ফাঁকি এবং শৃঙ্খলাভঙ্গমূলক আচরণের কারণে বিদ্যালয়ের সার্বিক পরিবেশ ঝুঁকির মুখে পড়েছে। শিক্ষক কর্মচারীদের দায়িত্বহীনতা স্বারকলিপিতে বলা হয়, বিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষক সঠিক সময়ে ক্লাসে উপস্থিত হন না, এমনকি পাঠদানেও শৈথিল্য দেখা যায়। কিছু শিক্ষক বিদ্যালয়ের কার্যক্রমের প্রতি অনীহা প্রদর্শন করেন, ফলে শিক্ষার্থীদের মানসিক ও শিক্ষাগত মঙ্গল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ম্যানেজিং কমিটির নিষ্ক্রিয়তা বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির নিষ্ক্রিয়তা প্রসঙ্গে বলা হয়।
প্রতিষ্ঠানটির শৃঙ্খলা তদারকিতে ব্যর্থতা, শিক্ষা ও কর্মচারীদের দায়িত্বহীনতা নিয়ন্ত্রণে উদাসীনতা, সময়মত বৈঠক না করা, জরুরি সমস্যা সমাধানে পদক্ষেপ না নেওয়া এসব কারণে বিদ্যালয়ের চলমান সংকট আরও বাড়ছে।জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ দাবি: স্বারকলিপিতে অবিলম্বে প্রয়োজনীয় তদন্ত পরিচালনা এবং দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে। অভিযোগকারীরা মনে করেন, শক্তিশালী তদারকি ও সঠিক প্রশাসনিক পদক্ষেপ ছাড়া বিদ্যালয়ের বর্তমান অচলাবস্থা দূর করা সম্ভব হবে না।