
ভেকুর মাটি চাপায় ঝরে গেল তৃতীয় শ্রেণির শিশুর প্রাণ, রাজশাহীতে মৃ*ত্যুর সাথে লড়ছে আরেক শিশু
বড়াইগ্রাম উপজেলা প্রতিনিধি মোঃ আজাদুল ইসলাম
নাটোরের বড়াইগ্রামে সরকারের কাবিখা প্রকল্পের রাস্তা মেরামতে ভেকু মেশিন ব্যবহারের সময় গর্ত ধসে মাটির নিচে চাপা পড়ে প্রাণ হারিয়েছে একটি তৃতীয় শ্রেণির শিশু। মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে আরেক চতুর্থ শ্রেণির শিশু।
সোমবার দুপুরে উপজেলার বাগডোব গড়িলা বিল এলাকায় এই হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে। নিহত মোস্তাকিম আহমেদ (১০) খাকসা দক্ষিণ পাড়ার দিনমজুর জহুরুল ইসলামের ছেলে। আহত সাকিব হোসেন (১২) একই এলাকার আবু তাহেরের সন্তান।
স্থানীয়রা জানান, কাবিখা প্রকল্পের আওতায় কাঁচা রাস্তা সংস্কারে ভেকু মেশিন দিয়ে মাটি কাটা হচ্ছিল। কিন্তু বৃষ্টিভেজা নরম মাটির পাশে খেলা করছিল একদল শিশু। হঠাৎ মাটি ধসে পড়ে চাপা পড়ে যায় দুই শিশু।
মর্মান্তিক সেই দৃশ্য দেখে ছুটে আসে এলাকাবাসী। মাটি সরিয়ে সাকিবকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও, নিথর দেহে মেলে মোস্তাকিমকে—যার শরীর সম্পূর্ণভাবে মাটির নিচে আটকে গিয়েছিল।
এখনো রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সাকিব। মৃত্যুর ভয়াবহ ছায়া তার শ্বাস-প্রশ্বাসে ভর করেছে।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, বারবার প্রতিবাদ ও অবগতির পরও কাবিখা প্রকল্পে ভেকু মেশিন ব্যবহারে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা। এই অবহেলার জেরেই অকালে ঝরে গেল একটি কোমল প্রাণ, মৃত্যুর মুখে আরেকটি।
বড়াইগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গোলাম সারওয়ার হোসেন জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। শিশুর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
কিন্তু প্রশ্ন রয়ে যায়—একটি সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প কি শিশুদের জীবনের চেয়ে বড়? কাবিখার নামে অব্যবস্থাপনা আর অনিয়ম কি এভাবেই কেড়ে নেবে আরেকটি জীবন?
দৈনিক প্রভাতী বাংলাদেশ থেকে আমি বলছি—এমন মৃত্যুর দায় কার? এই প্রশ্নটা রইল আমাদের সবার কাছে।