
আনারুজ্জামান বিশেষ প্রতিনিধি
আশাশুনি উপজেলার বুধহাটায় গত বুধবার ভোরে রাস্তার পাশের বাবলা বাগান থেকে বিজন দে’র মরাদেহ উদ্ধার ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত দুই জন আশাশুনি থানা পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তারা থানায় আত্মসমর্পণ করে।
আত্মসমর্পণকারী দুই জন বিজন দে’র সহচর বুধহাটা ইউনিয়নের পাইথালী গ্ৰামের আদর আলী ওরফে কটি’র পুত্র শরিফুল ইসলাম ও একই গ্ৰামের সাখাওয়াত আলীর পুত্র আনিছুর রহমান। আত্মসমর্পণের পূর্বে তারা তাদের পরিবার ও নিকটজনের সাথে সেই রাতের বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন। তাদের ভাষ্য মতে মঙ্গলবার রাতে বিজন দে সহ তারা তিন জন পাশ্ববর্তী জোড়দিয়া বিলে মৎস্য ঘেরে মাছ চুরি করতে যায়। মাছ চুরি করে ফিরে আসার সময় ঘেরের ভেড়ি দিয়ে না এসে ঘেরের পানির মধ্য দিয়ে আসতে থাকে। আন্দার কুনি এলাকার মৎস্য ঘেরে পানি বেশি থাকায় সেখানে পার হতে সাঁতার দিতে হয়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ি শরিফুল ও আনিসুর সাঁতরে পার হতে পারলেও বিজন দে প্রতিমধ্যে হাত-পা ছড়াছড়ি করে ডুবে যেতে থাকে।
তখন তারা টেনে হিছড়ে বিজন দে কে উপরে তুললে তখন সে খুব বেশি হাঁফাতে থাকে। এরপর খুব অল্প সময়ের মধ্যে সে মৃত্যু বরন করে। ঐ পরিস্থিতিতে তারা কি করবে ভেবে না পেয়ে মরাদেহ টেনে হেঁচড়ে কুন্দুড়িয়া এবং চুমুরিয়া গ্ৰামের সন্নিকটে বাঁকড়া ব্রিজের অপরদিকে মৎস্য ঘেরের পাশে ওয়াবদা রাস্তার স্লোভে বাবলা বাগানে ফেলে আসে।
তবে স্থানীয় অনেকেরী বক্তব্য তাদের দুজনের ভাষ্য সত্য হতেও পারে আবার নিজেদেরকে বাঁচাতে সাজানো কাহিনীও হতে পারে। তবে যেহেতু তারা এ ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত মর্মে থানায় আত্মসমর্পণ করেছেন সেহেতু পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদ ও ময়না তদন্ত রিপোর্ট পেলে ঘটনার সঠিক রহস্য উদ্ঘাটন হবে। উল্লেখ্য, গত বুধবার ভোরে পাইথালী গ্ৰামের ভঞ্জন দে’র পুত্র বিজন দে’র মরাদেহ কুন্দুড়িয়া এবং চুমুরিয়া গ্ৰামের সন্নিকটে বাঁকড়া ব্রিজের অপরদিকে মৎস্য ঘেরের পাশে ওয়াবদা রাস্তার স্লোভে বাবলা বাগানে পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে মরাদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।