কুড়িগ্রাম পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের চর হরিকেশ এলাকায় ভূমি জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে গোলজার হোসেন নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি ভুয়া ওয়ারিশ সনদ তৈরি করে আপন ভাইবোন ও চাচাতো ভাইবোনদের ওয়ারিশ থেকে বাদ দিয়ে কোর্টে মামলার মাধ্যমে অসংখ্য জমি দখল করে নিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মৃত ব্যাঙ মাহামুদ ও মৃত বাহার মাহামুদ আপন দুই ভাই। তাদের পরিবারে একাধিক ছেলে-মেয়ে থাকলেও মৃত ব্যাঙ মাহামুদের দ্বিতীয় পুত্র মৃত বাবু শেখের সন্তান গোলজার হোসেন নানা কৌশলে জমি হাতিয়ে নেন। অভিযোগকারীরা জানান, গোলজার হোসেন বিগত সরকারের আমলে পৌরসভা থেকে ভুয়া ওয়ারিশ সনদ সংগ্রহ করেন। এরপর ওই সনদ ব্যবহার করে কোর্টে মামলা করে নিজের স্ত্রী ও সন্তানদের নামে জমির দলিল করে নেন।
স্থানীয়রা আরও জানান, গোলজার কখনো নিজের নামে জমি দলিল না করে সব সম্পত্তি স্ত্রী ও সন্তানদের নামে দলিল করেছেন। এমনকি নিজের স্ত্রীকে অন্যের স্ত্রী ও ছেলেকে অন্যের ছেলে দেখিয়েও ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে জমি আত্মসাৎ করেছেন।
অভিযোগকারীরা বলেন, গোলজারের বিরুদ্ধে শুধু আপন ভাইবোনই নয়, চাচাতো ভাইবোন ও প্রতিবেশীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ভুয়া কাগজপত্র দেখিয়ে তিনি অনেকের ভিটামাটি পর্যন্ত দখল করেছেন।
মৃত বাবু শেখের চাচাতো ভাই মৃত সাইফুল ইসলামের ছেলে আয়ুব আলী বলেন,গোলজার
আমার চাচাতো ভাই। কিন্তু সে এতোটাই নিঠুর যে আমাদেরকে কাগজে কলমে ওয়ারিশ থেকে বাদ দিয়ে আমার দাদার ও বাবার প্রাপ্য জমি নিজের স্ত্রী-সন্তানের নামে দলিল করেছে। আমরা ৪ ভাই, অথচ আমাদের জমি সে ভোগ করছে। তার কঠোর শাস্তি চাই।
অভিযুক্ত গোলজারের আপন বোন জোসনা বেগম বলেন,আমার
আপন ভাই হলেও কাগজে আমাকে বোন হিসেবে উল্লেখ করেনি। সে ভুয়া ওয়ারিশ সনদ বানিয়ে আমাদের জমি নিজের বউ-সন্তানের নামে দলিল করেছে। আমি তার শাস্তি চাই।
এ বিষয়ে মৃত ব্যাঙ মাহামুদের নাতি সাজু মিয়া বলেন,গোলজার
আমাদের চাচাতো ভাই। সে ভুয়া ওয়ারিশ সনদ বানিয়ে কোর্টে মামলা করে রায় নিয়ে দলিল করেছে। যা আইনের দৃষ্টিতে অপরাধ। তাকে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে। আমরা যৌথ বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
অপরদিকে মৃত বাহারের নাতি ছাত্তার আলী বলেন,গোলজার
শুধু আমাদের প্রাপ্য জমি নয়, বরং এলাকার সাধারণ মানুষের জমিও হাতিয়ে নিয়েছে। ভুয়া দলিল দেখিয়ে জমি বিক্রিও করেছে।
স্থানীয় গ্রামবাসী মজিবর রহমান বলেন,এই
ভূমিধস্যু তার আপনজনদের প্রাপ্য জমি দখল করে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছে। অনেকের ভিটেমাটি পর্যন্ত কেড়ে নিয়েছে। আমরা চাই, তাকে দ্রুত বিচারের আওতায় আনা হোক।
অনুসন্ধান করে আরও জানা গেছে, এই ভূমিধস্যু জাল দলিলের মাধ্যমে কুড়িগ্রামের প্রভাবশালীদের কাছে জমি হস্তান্তর করে ওয়ারিশদের বাদ দিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগও রয়েছে।
এ বিষয়ে কুড়িগ্রামের একজন অভিজ্ঞ আইনজীবী জানান,
যদি কেউ ভুয়া ওয়ারিশ সনদ তৈরি করে প্রতারণার মাধ্যমে জমি আত্মসাৎ করে, তবে তার বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি ১৮৬০ এর ৪২০ (প্রতারণা), ৪৬৫ (জালকরণ), ৪৬৭ (মূল্যবান দলিল জালকরণ), ৪৬৮ (প্রতারণার উদ্দেশ্যে জালকরণ), ৪৭১ (জাল কাগজ ব্যবহার) ধারা অনুযায়ী মামলা করা যাবে। এসব অপরাধে সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত গোলজার হোসেনের বাসভবনে সাংবাদিকরা কথা বলতে গেলে তারা বাসায় প্রবেশ করতে পারেননি। গোলজার হোসেন এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি বলেও জানা গেছে।
এলাকাবাসীর দাবি, গোলজার হোসেনকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে যেন ভবিষ্যতে আর কোনো পরিবারকে জমি থেকে বঞ্চিত করতে না পারে, তার ব্যবস্থা নিতে হবে।