মোঃ আবদুল্লাহ আল-মামুন
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সংগঠনকে সুসংগঠিত ও শক্তিশালী করতে চকরিয়ার কাকারা ইউনিয়ন বিএনপি আয়োজন করে দ্বিবার্ষিক সম্মেলন ও কাউন্সিল। শুক্রবার (২১ নভেম্বর) উত্তর কাকারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে নেতারা বলেন- সময় এসেছে ঐক্য, সততা ও সংগঠনকে শক্ত ভিত্তিতে দাঁড় করানোর। সম্মেলনের প্রধান অতিথি কক্সবাজার জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক পিপি অ্যাডভোকেট শামীম আরা স্বপ্না বলেন-বিএনপির মনোনীত প্রার্থী সাবেক মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের বিজয় নিশ্চিত করতে দলের প্রতিটি পর্যায়ের নেতাকর্মীকে আরও সক্রিয় হতে হবে। ধানের শীষকে বিজয়ের প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে ঘরে ঘরে যেতে হবে, জনগণের সাথে সম্পর্ক বাড়াতে হবে। দলের প্রতি মানুষের আস্থা ফেরাতে সৎ, নিবেদিত কর্মীদের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি আরও বলেন- যেকোনো আন্দোলন-সংগ্রামে ঐক্যই হচ্ছে আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। নির্বাচনের মাঠে এই ঐক্যই সালাহউদ্দিন আহমেদের সাফল্য নিশ্চিত করবে।সম্মেলনের উদ্বোধক কক্সবাজার জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও চকরিয়া উপজেলা বিএনপির নবনির্বাচিত সভাপতি আলহাজ এনামুল হক বলেন-সালাহউদ্দিন আহমেদ শুধু কক্সবাজার নয় জাতীয় রাজনীতিতে একজন প্রতিষ্ঠিত ও গ্রহণযোগ্য নেতা। তার নেতৃত্বে চকরিয়া-পেকুয়ার উন্নয়ন ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে যাবে। তাই দলীয়ভাবে তাকে শক্তিশালী অবস্থানে রাখতে সকলকে একতাবদ্ধ থাকতে হবে।
তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিরোধী দলের ওপর নানা ধরনের চাপ থাকলেও বিএনপি জনগণের সমর্থন পেয়েই আবার সংগঠিত হচ্ছে।
ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে হলে বিএনপিকে আবারও ক্ষমতায় আনতে হবে।
জেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক ইউসুফ বদরী বলেন-বিএনপি হচ্ছে জনগণের দল। এখানে নেতৃত্ব আসে তৃণমূলের ভোটে, তৃণমূলের আস্থায়। কাকারা ইউনিয়ন বিএনপির আজকের এই সম্মেলন তা-ই প্রমাণ করে।রফিকুল ইসলাম বলেন-সংগঠনকে শক্তিশালী করতে ছড়িয়ে থাকা নেতাকর্মীদের আবার এক প্ল্যাটফর্মে ফিরিয়ে আনতে হবে। জনগণের অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের আরও দৃঢ় হতে হবে।
প্রধান বক্তা এম মোবারক আলী বলেন-চকরিয়া বিএনপি দীর্ঘদিন ধরে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী ভূমিকা পালন করছে। আগামী জাতীয় নির্বাচনে এই শক্তিই হবে আমাদের সবচেয়ে বড় সম্পদ।সাবেক সভাপতি এম মহিউদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইউনুছের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সম্মেলনে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে একাধিক প্রার্থী বায়োডাটা জমা দেন। এতে তৃণমূলে নেতৃত্বে আসার ব্যাপক আগ্রহের প্রতিফলন দেখা যায়।
সভাপতি পদে বায়োডাটা জমা দেন-জয়নুল আবেদিন, এম মহিউদ্দিন, কবির আহমদ মেম্বার, হামিদ রেজা, শফিকুল ইসলাম শফি, মাহবুবুর রহমান, সাংবাদিক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ (আল-মামুন), ইকবাল আমিন চৌধুরী, মো. বেলাল উদ্দিনসহ আরও অনেকে। সাধারণ সম্পাদক পদে বায়োডাটা জমা দেন-মোহাম্মদ ইউনুস, নাজেম উদ্দিন, শোয়াইবুল ইসলাম এমএ, মো. হারুন, জিয়াবুল হাসানসহ অন্যান্য প্রার্থী।নেতৃবৃন্দ বলেন-নেতৃত্ব নির্বাচনে স্বচ্ছতা বজায় রেখে যোগ্য ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের দায়িত্ব দেওয়া হবে। এতে ইউনিয়ন বিএনপির ভবিষ্যৎ আরও শক্তিশালী হবে।সারা ইউনিয়ন থেকে হাজার হাজার নেতাকর্মী অংশ নেওয়ায় সম্মেলন মাঠে এক উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। অনেকেই বলেন, দীর্ঘদিন পর এত বড় আয়োজনে নতুন উদ্দীপনা ফিরে এসেছে সংগঠনে।সম্মেলন শেষে কাউন্সিলের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয় এবং অচিরেই নতুন নেতৃত্ব ঘোষণা করা হবে বলে জানান আয়োজকরা।