অপু দাস স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী
রাজশাহীর দরগাপাড়া এলাকায় দিঘাপতিয়ার রাজপরিবারের উত্তরসূরি সন্দীপ কুমার রায়ের নির্মিত ঐতিহ্যবাহী রাজবাড়ি রক্ষার দাবিতে নাগরিক সমাজ তিন দফা দাবি উত্থাপন করেছে। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক আফিয়া আখতারের কাছে প্রতিনিধিদল স্মারকলিপি প্রদান করে। স্মারকলিপি প্রদানের সময় শহরের বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং ইতিহাস অনুরাগীরা উপস্থিত ছিলেন।প্রতিনিধিদের বক্তব্য অনুযায়ী, অতীত ইতিহাসে সমৃদ্ধ রাজশাহীর বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। কান্তকবি রজনীকান্ত সেনের বসতভিটা, মিঞাপাড়ায় রাজা হেমেন্দ্র কুমারের বাড়ি, চলচ্চিত্রকার ঋত্বিক ঘটকের ভাঙা বসতভিটা, তালন্দ ভবনসহ বহু স্থাপনাই ধ্বংসের মুখে। তারা মনে করেন, এসব স্থাপনার যথাযথ সংরক্ষণ না হলে রাজশাহীর ঐতিহাসিক পরিচয় ক্ষতিগ্রস্ত হবে।স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়—রাজশাহী প্রাচীন বাংলার অন্যতম কেন্দ্রীয় অঞ্চল।পুন্ড্র সাম্রাজ্যের অংশ হিসেবে এ অঞ্চল বহু রাজবংশ ও সংস্কৃতির সাথেও জড়িত। সেন বংশের শাসনামলে বিজয়পুর, যা রাজশাহী শহর থেকে অল্প দূরে অবস্থিত ছিল, এক সময় রাজধানী হিসেবে পরিচিত ছিল। মধ্যযুগে এ অঞ্চল ‘রামপুর বোয়ালিয়া’ নামে পরিচিত ছিল, যার নাম আজও শহরের এক থানায় বহমান।এই ইতিহাসঘেরা অঞ্চলের মধ্যেই অবস্থিত সন্দীপ কুমার রায়ের নির্মিত বাড়িটি। জনশ্রুতি আছে, পুঠিয়ার মহারানি হেমন্তকুমারী শহরে এলে এই বাড়িতে অবস্থান করতেন। বাড়িটির সামনে পুরোনো নাগলিঙ্গম গাছও ঐতিহাসিক পরিচয়ের অংশ হিসেবে পরিচিত। বাড়িটির প্রত্নমূল্য যাচাই না করেই সেটিকে ভাঙার জন্য নিলামে তোলায় নাগরিক সমাজ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।নাগরিক সমাজের মূল দাবি স্মারকলিপিতে যে তিনটি দাবির কথা বলা হয়েছে, তা হলো রাজবাড়ি ভাঙার উদ্যোগের সঙ্গে জড়িতদের জবাবদিহির আওতায় আনা,ভবনটি ও নাগলিঙ্গম গাছ সংরক্ষণ করে স্থাপনাটিকে হেরিটেজ হিসেবে ঘোষণা করা,রাজশাহী জেলা ও বিভাগে পূর্ণাঙ্গ প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপ চালিয়ে সকল ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা শ্রেণিবিন্যাস করে সংরক্ষণের উদ্যোগ গ্রহণ।সাথে সাথে রজনীকান্ত সেনের বসতভিটা, মিঞাপাড়ার হেমেন্দ্র কুমারের বাড়ি যা বর্তমানে একটি বিশেষ বাহিনীর দখলে, তালন্দ ভবন যেটিও দখলে রয়েছে, এসব স্থাপনা দ্রুত উদ্ধার ও পুনরুদ্ধার করার বিষয়টিও স্মারকলিপিতে গুরুত্ব পায়। দাবির অনুলিপি বিভাগীয় কমিশনারের কাছেও পাঠানো হয়েছে।হেরিটেজ রাজশাহীর সভাপতি ও গবেষক মাহবুব সিদ্দিকী, নৃবিজ্ঞানী শহিদুল ইসলাম, বরেন্দ্র ইয়ুথ ফোরামের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আতিকুর রহমান আতিক, ইয়্যাসের সভাপতি শামীউল আলীম শাওনসহ বিভিন্ন সামাজিক–সাংস্কৃতিক সংগঠনের কার্যক্রম–সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।তাদের দাবি রাজশাহীর ঐতিহাসিক পরিচয় রক্ষায় এগুলো সংরক্ষণ এখন জরুরি, নইলে প্রাচীন ঐতিহ্য হারিয়ে যাবে একে একে।