মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় সাংবাদিকের ওপর সশস্ত্র হা,ম,লা: কথিত পল্লী চিকিৎসক কাশেম আ,ট,ক
জাহাঙ্গীর আলম
স্টাফ রিপোর্টার, মানিকগঞ্জ:
মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলায় পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় সাংবাদিক মো. আবুবকর সিদ্দিকের ওপর সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (২ আগস্ট ২০২৫) সন্ধ্যায় সাটুরিয়া ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের হান্দুলিয়া গ্রামে এই ন্যাক্কারজনক হামলার ঘটনা ঘটে। আহত আবুবকর সিদ্দিক বর্তমানে সাটুরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।
আহত সাংবাদিক মো. আবুবকর সিদ্দিক এশিয়ান টেলিভিশন এবং দৈনিক জবাবদিহি পত্রিকার সাটুরিয়া উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালন করছেন। ঘটনার পর স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
হামলার পেছনের কারণ
ভুক্তভোগী সাংবাদিক জানান, ঢাকার ধামরাই উপজেলার বাসিন্দা কথিত পল্লী চিকিৎসক আবুল কাশেম সম্প্রতি সাটুরিয়া উপজেলার কৈজুরী এলাকার এক খামারির গরুকে চিকিৎসা দেন। তার চিকিৎসার একদিন পরেই গরুটি মারা যায়। এরপর স্থানীয়ভাবে অভিযোগ ওঠে, কাশেম পেশাগতভাবে অদক্ষ ও অযোগ্য ব্যক্তি হিসেবে এলাকায় চিকিৎসা দিয়ে নিরীহ খামারিদের ক্ষতির মুখে ফেলছেন।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে ১ আগস্ট ২০২৫ তারিখে এশিয়ান টেলিভিশনে প্রচারিত একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে কাশেমের কর্মকাণ্ড নিয়ে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। এতে সাটুরিয়া উপজেলার চামুটিয়া, হান্দুলিয়া, কৈজুরীসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত খামারিদের বক্তব্যও প্রকাশ পায়।
ঘটনার বিবরণ
প্রতিবেদন প্রচারের একদিন পর শনিবার বিকেলে আবুবকর সিদ্দিক যখন হান্দুলিয়া এলাকায় তথ্য সংগ্রহ করছিলেন, তখন কাশেম সেখানে উপস্থিত হয়ে তার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। সাংবাদিকতার দায়িত্ব পালনের সময় আবুবকর সিদ্দিক চিকিৎসকের বৈধতা সম্পর্কে প্রশ্ন করলে কাশেম তাকে গালিগালাজ করেন এবং প্রকাশ্যে হেনস্তার চেষ্টা করেন। এক পর্যায়ে কাশেম এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়।
তবে রাত আটটার দিকে কাশেম পুনরায় ঢাকা ধামরাই থেকে তার একদল সহযোগী নিয়ে হান্দুলিয়ায় ফিরে আসে এবং সাংবাদিক আবুবকর সিদ্দিকের ওপর সশস্ত্র হামলা চালায়। দেশীয় অস্ত্র, লাঠিসোটা দিয়ে বেধড়ক মারধর করে তাকে গুরুতর জখম করা হয়। আহত অবস্থায় স্থানীয়রা হাসপাতালে নিতে গেলে কাশেম পথ থেকে তাকে নামিয়ে নিয়ে পুনরায় মারধর করে এবং হান্দুলিয়ার প্রধান সড়কে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, কাশেম সাংবাদিককে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি দেয়।
মামলা ও পুলিশি ব্যবস্থা
এই ঘটনায় সাংবাদিক আবুবকর সিদ্দিক নিজে বাদী হয়ে সাটুরিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে হামলা, হত্যাচেষ্টাসহ ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
সাটুরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহিনুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, অভিযোগ পাওয়ার পরপরই কথিত পল্লী চিকিৎসক মো. কাশেমকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় বিস্তারিত তদন্ত শুরু হয়েছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সাংবাদিক মহলের প্রতিক্রিয়া
হামলার ঘটনায় সাটুরিয়া উপজেলার সাংবাদিক মহল চরম ক্ষোভ ও নিন্দা প্রকাশ করেছে। সাংবাদিক নেতারা সাটুরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আহত আবুবকর সিদ্দিককে দেখতে যান এবং তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন। তারা অবিলম্বে হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
এ বিষয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী ও সচেতন নাগরিকরা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করতে কোনো সন্ত্রাসী তৎপরতা বরদাশত করা হবে না।”