বিএনপির চেয়ারপার্সন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আশু রোগমুক্তি ও সুস্থতা কামনার পাশাপাশি বাসন থানা বিএনপির প্রয়াত বরেণ্য নেতাদের রুহের মাগফিরাত কামনায় এক বিশেষ দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। সাবেক গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের জনপ্রিয় কাউন্সিলর এবং এলাকার বিশিষ্ট সমাজসেবক জনাব মোসলেম উদ্দিন চৌধুরী মুসার নিজ বাসভবনে এই গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানটি আয়োজিত হয়। স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের পাশাপাশি জেলা ও মহানগরীর বিভিন্ন পর্যায়ের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে মাহফিলটি এক আবেগঘন পরিবেশে রূপ নেয়। এই কর্মসূচির মাধ্যমে দলটির তৃণমূলের প্রতি শ্রদ্ধা ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের প্রতি অকুণ্ঠ সমর্থনের বার্তা তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করা হয়। এরপর বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার দ্রুত উন্নতি চেয়ে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করা হয়। প্রায়শই অসুস্থতা নিয়ে যার রাজনৈতিক জীবন আজ কঠিন পরীক্ষার মুখে, সেই নেত্রীর জন্য দলমত নির্বিশেষে সকলের প্রার্থনা ছিল চোখে পড়ার মতো। বক্তারা বলেন, দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য আপোষহীন নেত্রী বেগম জিয়ার সুস্থতা একান্ত অপরিহার্য। তিনি শুধু একজন ব্যক্তি নন, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রতিচ্ছবি। তাঁর দীর্ঘায়ু কামনা করে নেতাকর্মীদের কণ্ঠে ছিল গভীর আক্ষেপ ও প্রত্যাশার সুর।
এই দোয়া মাহফিলের একটি বড় অংশ জুড়ে ছিল বাসন থানা বিএনপির প্রয়াত সেই সকল ত্যাগী নেতাদের স্মরণ, যারা দল ও দেশের জন্য নিরলসভাবে কাজ করে গেছেন। মোসলেম উদ্দিন চৌধুরী মুসা ব্যক্তিগতভাবে উদ্যোগী হয়ে তাঁর প্রাঙ্গণে এই আয়োজন করেন, যা প্রয়াত নেতাদের পরিবারের সদস্যদের জন্য ছিল গভীর সান্ত্বনার। মোনাজাতে তাঁদের আত্মার শান্তি ও বেহেশত নসিবের জন্য করুণা প্রার্থনা করা হয়। এই উদ্যোগ প্রমাণ করে, বিএনপি তার অতীতের ত্যাগী কর্মীদের ভুলে যায়নি, বরং যথাযথ সম্মানের সঙ্গে তাদের স্মরণ করে। এটি তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে নতুন করে উদ্দীপনা ও প্রেরণা জুগিয়েছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি জনাব আ. ফ. ম. রশীদ খান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জনাব শওকত হোসেন, মহিলা দল, যুবদল ও ছাত্রদলের স্থানীয় এবং কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ সহ বিপুল সংখ্যক কর্মী-সমর্থক। উপস্থিতি স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে এই বার্তা পৌঁছে দিয়েছে যে, প্রতিকূলতার মধ্যেও বিএনপির সাংগঠনিক ভিত্তি এবং নেতাকর্মীদের ঐক্যের বন্ধন অটুট রয়েছে।
নেতাকর্মীদের সংহতি ও সংকল্প:
উপস্থিত নেতৃবৃন্দ তাদের বক্তব্যে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও সুস্থতার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা করেন। তারা সরকারের প্রতি আহ্বান জানান যেন নেত্রীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত বিদেশে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। নেতারা বলেন, আইনি অধিকার ও মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে এই সুযোগ দেওয়া উচিত। পাশাপাশি, তাঁরা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে দলের সকল স্তরের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
সাবেক কাউন্সিলর ও অনুষ্ঠানের আয়োজক মোসলেম উদ্দিন চৌধুরী মুসা তাঁর বক্তব্যে বলেন, "গণতন্ত্রের মাতা বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতার জন্য দোয়া করা আমাদের ঈমানী দায়িত্ব। তিনি আমাদের জন্য যে ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তার ঋণ কোনোদিন শোধ হওয়ার নয়। বাসন থানা বিএনপির প্রয়াত নেতৃবৃন্দও ছিলেন আমাদের অনুপ্রেরণা। তাঁদের স্মৃতি ধরে রাখা এবং তাঁদের রুহের মাগফিরাত কামনা করা আমাদের নৈতিক কর্তব্য। আজ এই মহফিলে সকলের উপস্থিতি প্রমাণ করে, বিএনপি এখনও জনগণের হৃদয়ে আছে এবং থাকবে।" তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই ধরণের ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দলের অভ্যন্তরে ভ্রাতৃত্ব ও সংহতি আরও জোরদার হবে। তাঁর এই বক্তব্য নেতাকর্মীদের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলে।
সবশেষে, তবারক বিতরণের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। এই দোয়া ও মিলাদ মাহফিল কেবল একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান ছিল না, বরং বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এটি ছিল দলটির সংহতি ও দৃঢ় মনোবলের একটি জোরালো বহিঃপ্রকাশ। বিশেষ করে, যখন দলের চেয়ারপার্সন গুরুতর অসুস্থ, তখন তৃণমূলের এই ধরনের আয়োজন নেতাকর্মীদের মনোবল চাঙা করতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এটি স্পষ্ট করে দিল যে, প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও বিএনপির নেতাকর্মীরা তাদের নেত্রীর প্রতি বিশ্বস্ত এবং দলের লক্ষ্য অর্জনে বদ্ধপরিকর।