বড়তাকিয়ায় সড়ক দূর্ঘটনায় শিক্ষার্থী সহ নি হ ত ২, আ হ ত
. হারাধন চক্রবর্তী, স্টাফ রিপোর্টার,মিরসরাই, চট্টগ্রাম।
ঢাকা -চট্টগ্রাম মহাসড়কের মিরসরাই বড়তাকিয়া জাহেদিয়া মাদ্রাসার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশার পেছনে নিয়ন্ত্রনহীন ট্রাকের ধাক্কায় মাদ্রাসা শিক্ষার্থীসহ ২ জন নিহত হয়েছেন। অটোরিক্সা ও ট্রাকটি পুকুরে পড়ে যায়।এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৩ জন। আহতের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনার পর চট্টগ্রামমুখী লেনে সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট। হাত ধরাধরি করে মাদ্রাসায় যাচ্ছিল তিন বোন। দূরের পথ পাড়ি দিয়ে মাদ্রাসার ফটকের সামনেও চলে এসেছিল তারা। তখনই হঠাৎ পাশের মহাসড়ক থেকে ধেয়ে আসা একটি বেপরোয়া ট্রাক চাপা দিল তাদের। ঘটনাস্থলেই তিন বোনের একজনের মৃত্যু হয়, গুরুতর আহত হয় বাকি দুই বোনসহ আরও পাঁচজন। তাদের পাশে থাকা পথচারী এক তরুণও মারা যান ঘটনাস্থলেই। তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি তাঁর নাম ও পরিচয়।নিহত খাদিজা মাশমুম বড়তাকিয়া জাহেদিয়া দাখিল মাদ্রাসার ১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থী। অন্যজনের পরিচয় এখনও জানা যায়নি। তা তাৎক্ষণিক আহতদের নাম-পরিচয়ও পাওয়া যায়নি।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সহকারী পুলিশ সুপার (মিরসরাই সার্কেল) নাদিম হায়দার বলেন ফায়ার সার্ভিস, থানা পুলিশকে খবর দিয়েছি। ২জন নিহত হওয়ার খবর পেয়েছি। হাসপাতালে ৩ জনকে নিয়ে গেছে আশঙ্কাজনক অবস্থায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ারসার্ভিস ও হাইওয়ে পুলিশ।বর্তমানে সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। দুর্ঘটনার শিকার তিন বোন উপজেলার খৈয়াছড়া ইউনিয়নের পোলমোগরা গ্রামের নাছির উদ্দিনের মেয়ে। আজ দুপুরে নাছির উদ্দিনের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, গ্রামবাসী ভিড় করেছেন বাড়ির সামনে। উঠানের এক পাশে পর্দা টানিয়ে ভেতরে রাখা হয়েছে খাদিজার লাশ। সেখানে আহাজারি করছিলেন আত্মীয়-স্বজনরা। তিন মেয়ের শোকার্ত বাবা নাছির উদ্দিন নির্বাক বসেছিলেন। তাঁর কথা বলার শক্তি ছিল না। কয়েকজন স্বজন জানান, নাছিরের তিন মেয়ে। সবাই একই মাদ্রাসায় পড়ত। বাড়ি থেকে মাত্রা আধা কিলোমিটার দূরে মাদ্রাসায় হেঁটে যেত তিন বোন। কেউ কখনো ভাবেননি এমন দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।