এস এম আলমগীর হুসাইন স্টাফ রিপোর্টার
ফরিদপুরে সুরক্ষা প্রাইভেট হাসপাতালে এক নারীকে ক্লিনার দিয়ে অস্ত্রোপচার করানোর অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করেছে জেলা প্রশাসন। রোববার দুপুরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাজমুন নাহার নাঈমের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে হাসপাতালটি বন্ধ করে দেওয়া হয়।অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মিন্টু বিশ্বাস জানান, হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়ামুলকে দিয়ে অস্ত্রোপচার করানো, অপারেশন থিয়েটারের ফ্রিজ বন্ধ থাকা এবং ভেতরে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ পাওয়াসহ একাধিক অনিয়মের কারণে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।আজকের পত্রিকায় প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ১৮ নভেম্বর স্তনের সমস্যা নিয়ে সুরক্ষা হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে যান কানাইপুর ইউনিয়নের খাসকান্দির বাসিন্দা ববিতা বেগম। চিকিৎসক বায়োপসি পরীক্ষার পরামর্শ দিলেও ওটি কর্মী নিয়ামুল ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে তাঁকে মেডিকেলে না গিয়ে নিজের মাধ্যমেই করাতে বলেন।পরে তিনি অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে স্তনের টিস্যু সংগ্রহ করেন এবং সেলাই দেওয়ার পাশাপাশি প্রেসক্রিপশনও লিখে দেন।অস্ত্রোপচারের ১৫ দিন পর ববিতা বেগম মারাত্মক সংক্রমণে আক্রান্ত হন। পরে ৪ ডিসেম্বর ফরিদপুর সেন্ট্রাল স্পেশালাইজড হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তাঁর সংক্রমিত স্তনের বড় অংশ কেটে ফেলতে হয়। তিনি বর্তমানে সেখানেই চিকিৎসাধীন।ঘটনার পর সিভিল সার্জন মাহামুদুল হাসান জানান, ডেপুটি সিভিল সার্জন বদরুদ্দোজা টিটোকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তাঁদের সাত কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।