ধর্মের মুখোশে প্রতারণা: বিধবার সর্বস্ব লুটে নেওয়ার অ ভিযো গ।
জেলা প্রতিনিধিঃ অহিদুল ইসলাম
লক্ষ্মীপুর পৌরসভার বাঞ্চানগর, ওয়ার্ড নং–৩ এলাকার বাসিন্দা রিনা আক্তার নামে এক ভুক্তভোগী নারী অভিযোগ করেছেন, তার কাছ থেকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও স্বর্ণালংকার আত্মসাৎ করা হয়েছে।
অভিযুক্ত ব্যক্তি হলেন মাওলানা মোঃ ইউসুফ, পিতা: মোঃ নাছির। তার ঠিকানা সফিক মেম্বার বাড়ি, গ্রাম: চর নেয়ামত, ডাকঘর: নুরীয়া মাদ্রাসা–৩৭৩০, রামগতি, লক্ষ্মীপুর। তিনি সাবেক লক্ষ্মীপুর মারকাজ মসজিদের মোয়াজ্জেম ছিলেন বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগী রিনা আক্তার জানান, তার প্রথম স্বামী মৃত্যুবরণ করার পর তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। ওই সময় তার গৃহ শিক্ষক হিসেবে পরিচিত মাওলানা মোঃ ইউসুফ তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা গড়ে তোলেন। এক পর্যায়ে নিজেকে অবিবাহিত দাবি করে তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন এবং বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিশ্বাস অর্জন করেন।
রিনা আক্তারের অভিযোগ, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তার প্রথম স্বামীর রেখে যাওয়া নগদ ১৩ লক্ষ টাকা এবং মূল্যবান স্বর্ণালংকার আত্মসাৎ করেন মাওলানা মোঃ ইউসুফ। পরবর্তীতে বিয়ের পর রিনা আক্তার জানতে পারেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করেছেন। তিনি পূর্বেই বিবাহিত এবং তার প্রথম স্ত্রীর ঘরে চারজন সন্তান রয়েছে—এই বিষয়টি সম্পূর্ণ গোপন রাখা হয়েছিল।
এ ঘটনায় প্রতারিত হয়ে রিনা আক্তার বিষয়টি গণমাধ্যমে জানালে দৈনিক প্রভাতী বাংলাদেশ প্রতিদিন পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ের জন্য ভুক্তভোগী নারীকে সঙ্গে নিয়ে সরেজমিনে সংবাদ সংগ্রহে যান।
এ সময় অভিযুক্ত মাওলানা মোঃ ইউসুফের পক্ষ থেকে তার ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসীদের মাধ্যমে সাংবাদিক ও ভুক্তভোগী নারীকে হেনস্তা করা হয় এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে এলাকায় আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়রা বলছেন, একজন ধর্মীয় ব্যক্তিত্বের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তারা মনে করেন, বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
ভুক্তভোগী রিনা আক্তার প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করে ন্যায়বিচার দাবি করেছেন।