ঈশ্বরদী উপজেলা, প্রতিনিধি, ইফতেখারুল ইসলাম
ঈশ্বরদীতে কৃষির ডিপ্লোমা শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ করে চলমান বিক্ষোভে পুলিশ লাঠিচার্জ করেছে এ ঘটনায় অন্তত ২৩ শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) দুপুর ২ ঘটিকার দিকে শহরের আলহাজ্ব মোড় গোল চত্ত্বর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।প্রত্যক্ষদর্শী ও শিক্ষার্থীদের তথ্যমতে, মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে ঈশ্বরদীস্থ কৃষি ডিপ্লোমা ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা তাদের ৮ দফা দাবিতে শহরের আলহাজ্ব মোড়ে এসে সড়ক অবরোধ করেন। এসময় ঈশ্বরদী-রাজশাহী, ঈশ্বরদী-ঢাকা ও কুষ্টিয়ার সাথে ঈশ্বরদীর সকল প্রকার যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় ২ ঘন্টা ব্যাপী চলা এ বিক্ষোভের কারনে আন্দোলনের উভয় দিকের রাস্তাতেই প্রায় ২ কিলোমিটারে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়। এসময় মেগা প্রকল্প রুপপুর নিউক্লিয়ার পাওয়ার পয়েন্টের রাশিয়ান কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও সৃষ্ট এ জ্যামে আটকা পড়েন।এ সময় ঈশ্বরদী থানা পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে শিক্ষার্থীদের সড়ক ছেড়ে চলে যাওয়ার অনুরোধ করলে তারা পুলিশের সাথে বিতণ্ডায় জড়ান। এক সময় পুলিশ শিক্ষার্থীদের উপর লাঠি চার্জ করতে বাধ্য হন। অবস্থা বেগতিক দেখে ঘটনাস্থলে ২ প্লাটুন সেনাবাহিনীর সদস্যরা সেখানে অবস্থান নেন। পুলিশ এবং সেনাবাহিনীর কঠোর হস্তক্ষেপে শিক্ষার্থীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন এবং প্রায় ২ ঘন্টাপর সড়কের যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।কৃষি ডিপ্লোমা ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী জীবন সরকার জানান, আমরা আমাদের দাবি আদায়ের জন্য রাস্তায় অবস্থান নিয়েছিলাম। কিন্তু পুলিশ সদস্যরা এসে আমাদের পিটিয়ে সড়ক থেকে উঠিয়ে দিয়েছেন।নিজেকে জুলাই যোদ্ধা দাবি করে শিক্ষার্থী তানভীর ইসলাম বলেন, আমাদের অন্তত ২৩ জন শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে গুরুতর জখম করেছে পুলিশ সদস্যরা। আহতরা সবাই ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিচ্ছেন।৪র্থ পর্বের শিক্ষার্থী রিফাত জামান বলেন, আমাদের উপর এ হামলার সঠিক বিচার না হলে আমরা কঠোর আন্দোলনে যাব। প্রয়োজনে ক্যাম্পাস অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেব।জানতে চাইলে ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার বলেন, কৃষি ডিপ্লোমা ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা সোমবারও সড়ক অবরোধ করে আন্দোলন করতে ছিলো। আমরা তাদের দাবি দাওয়া গুলো সংশ্লিষ্টদের মাধ্যমে আলোচনা করে পুরণের আশ্বাস দিয়ে তাদের ক্যাম্পাসে পাঠিয়ে ছিলাম। হঠাৎ আজকে আবার কোন কারণ ছাড়াই তারা সড়ক অবরোধ করেন। আমরা তাদের যাথার্থ বুঝিয়েছি। তবুও তারা সড়ক ছাড়তে রাজি না হলে পুলিশ এবং সেনাবাহিনীর সদস্যরা সমন্বয় করে সড়ক থেকে তাদের তুলে দেন এবং যান চলাচল স্বাভাবিক করেন।