
মোঃ ওবায়দুর রহমান ফরিদপুর
বুধবার দিনব্যাপী ফরিদপুর মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট আঞ্চলিক গবেষণাগারের আয়োজনে এবং সালথা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের সহযোগিতায় উপজেলা পরিষদের হল রুমে এ প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় ভ্রাম্যমাণ মৃত্তিকা পরীক্ষাগার “মধুমতি” এর মাধ্যমে ৫০ জন কৃষকের মাঝে মৃত্তিকা নমুনা বিশ্লেষণপূর্বক বিশ্লেষিত ফলাফলের ভিত্তিতে সার সুপারিশ কার্ড বিতরণ করা হয়। ফরিদপুরের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এসএসও কৃষিবিদ মো. কিবরিয়ার সভাপতিত্বে এ সময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অ্যানালাইটিক্যাল সার্ভিসেস উইং এর সম্মানী পরিচালক মো. জয়নাল আবেদিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা কেন্দ্রীয় গবেষণাগারের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. নূরুল হুদা আল মামুন, ঢাকা কেন্দ্রীয় গবেষণাগারের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এ.কে.এম জগলুল পাশা, ঢাকা মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের উপপরিচালক সেলিনা তাসনীন খান, এসআরডিআই অ্যানালাইটিক্যাল সার্ভিসেস উইং এর ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মোছা. নাছরীন বেগম, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সুদর্শন শিকদার প্রমুখ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. জয়নাল আবেদিন বলেন, মাটি পরীক্ষা করে সার দিলে সারের পরিমাণ কম লাগে। এতে একদিকে কৃষকের অর্থের সাশ্রয় হয়, অপরদিকে কৃষির পরিবেশ ভালো থাকে। কাজেই সময় এসেছে মাটি পরীক্ষা করে সুষম সার প্রয়োগ করার। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সুদর্শন শিকদার বলেন, মাটি পরীক্ষার মাধ্যমে মাটির গুণগত মান সম্পর্কে জানা যায়। সারের ব্যবহার সুষম মাত্রায় করতে মাটি পরীক্ষার বিকল্প নাই। মাত্রাতিরিক্ত সার ও কীটনাশক ব্যবহার করার ফলে আমাদের মাটি দিন দিন নষ্ট হচ্ছে, উর্বরতা হারাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, এক গবেষণায় দেখা গেছে—কৃষকরা নিয়মিত মাটি পরীক্ষা করে সার প্রয়োগ করলে বার্ষিক ২০ হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় করা সম্ভব। তাই কৃষকদের এ কাজে এগিয়ে আসতে হবে।
সারা দেশে ভ্রাম্যমাণ মৃত্তিকা গবেষণাগার (এমএসটিএল) নিয়ন্ত্রণকারী কর্মকর্তা এ.কে.এম জগলুল পাশা বলেন, সারাদেশে রবি মৌসুম–২০২৫ এ ৬৪ টি জেলার ৬৪ টি উপজেলায় ভ্রাম্যমাণ মৃত্তিকা গবেষণাগারের মাধ্যমে প্রায় ৩৫০০ জন কৃষককে বিনামূল্যে মাটি পরীক্ষার ভিত্তিতে সুষম মাত্রায় সার প্রয়োগ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মাসব্যাপী কর্মসূচি চলমান রয়েছে। সভাপতির বক্তব্যে প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. কিবরিয়া বলেন, এটি একটি উদ্বুদ্ধকরণ প্রোগ্রাম, যাতে কৃষকরা নিজ উদ্যোগে মাটি পরীক্ষা করে সুষম সার প্রয়োগ করেন। তিনি আরও বলেন, ভেজাল সার সনাক্তকরণ ও সুষম সার প্রয়োগের বিষয়টি তুলে ধরে সার চেনার উপায় বাতলে দেন এবং ভেজাল সার পরিহারের পরামর্শ দেন। পরিশেষে তিনি সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।