
পলাশের ওয়াবদার গেইটে আশিকুর রহমান পনিরের নতুন‘ত্রাসের রাজনীতি – বলয়’ গঠনের চেষ্টা
স্টাফ রিপোর্ট
মোঃমামুন মোড়ল :
পলাশ থানার ওয়াবদার গেট এলাকায় সম্প্রতি আশিকুর রহমান পনির নামে চরসিন্দুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদকের বিরুদ্ধে ত্রাসের রাজনৈতিক পেশী শক্তির বলয় গঠন, প্রভাব বিস্তার এবং বিভিন্ন অনিয়মে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। ৫ আগস্ট ছাত্র–জনতার আন্দোলনে তৎকালীন ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর কিছুদিন আত্মগোপনে থাকা এই নেতা এখন আবার সক্রিয় হয়ে ওঠার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
স্থানীয় কয়েকটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, আশিকুর রহমান পনির ওয়াবদার গেট এলাকায় নতুন করে তার ‘নিজস্ব পেশী শক্তি – বলয়’ তৈরি করছেন। অভিযোগ রয়েছে, এই পেশী শক্তিকে কেন্দ্র করে তিনি এলাকায় রাজনৈতিক প্রভাব পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছেন, যাতে পরবর্তীতে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক শক্তিকে পুনর্বাসনের সুযোগ সৃষ্টি হয়।
স্থানীয়দের দাবি, অতীতে ক্ষমতার সময় যেসব অভিযোগ উঠেছিল—জোরজবরদস্তি, ভয়–ভীতি প্রদর্শন, মামলার ভয় দেখিয়ে টাকা আত্মসাৎ, জোর পূর্বক জমি দখল, সাধারণ মানুষকে হয়রানি, এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে নিয়ন্ত্রণ—এ সেসব কর্মকাণ্ডের পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে এলাকাবাসীর মধ্যে।
এলাকাভিত্তিক কয়েকজন ব্যবসায়ী অভিযোগ করেছেন, পূর্বে স্বৈরাচারী সরকারের আমলে আশিকুর রহমান পনির বিভিন্ন টেন্ডারবাজীকরে জিরো থেকে হিরো হয়েছেন।অবৈধভাবে কামিয়েছেন কোটি কোটি টাকা। গড়েছিলেন এক ত্রাসের রাজত্ব। প্রকল্প ও সুবিধাভোগী তালিকা—এসব ক্ষেত্রে প্রভাব খাটাতেন । তাদের দাবি, “তার এমন কোনো কাজ নেই যেখানে তিনি স্বার্থসিদ্ধির জন্য করেননি।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আশিকুর রহমান পনিরের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “তিনি ফের মাঠে সক্রিয় হলে এলাকায় আবারও ত্রাসের রাজনীতি উত্তেজনা ও ভয়ভীতি বাড়তে পারে। আগের অভিজ্ঞতা থেকেই মানুষ সতর্ক।”
তাদের দাবি, ক্ষমতা পরিবর্তনের পর রাজনৈতিক পরিস্থিতি দল বদলালেও তার নেতাকর্মী নিজেদের আধিপত্য ত্রাসের রাজনীতি বজায় রাখতে আগ্রহী।
আইন–শৃঙ্খলা সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেই তা যাচাই–বাছাইয়ের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা বা পুরনো পরিচিতির কারণে কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়।তবে এলাকাবাসীর দাবি তাকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে বিচারের ব্যবস্থা করতে হবে। সে গোপনে ভিতরে ভিতরে আওয়ামী লীগকে সংঘটিত করে আন্দোলনের নামে পলাশে আইন শৃঙ্খলার অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করছে এবং আওয়ামী লীগের লোক জন কে অর্থনৈক যোগান দিচ্ছে বলে একাধিক প্রমাণ পাওয়া যায়। তাই তাকে দ্রুত গেফতার করে আইনের আওতায় আনা হউক বলে জনগণের দাবী।
আইন–শৃঙ্খলা বাহিনীর একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “যদি কেউ নতুন করে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি করে বা ব্যক্তিস্বার্থে জনসাধারণকে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালায়, তবে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযোগগুলো সত্য না মিথ্যা—তা উদ্ঘাটনে প্রশাসনের স্বচ্ছ তদন্ত জরুরি। তবে স্থানীয় জনমনে যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে, তা স্পষ্ট। রাজনৈতিক পরিবেশ শান্ত রাখতে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছেন এলাকাবাসী।