পটুয়াখালী আমন ধানে পোকামাকড়ের আক্রমণ তীব্র বিপর্যয়ের আশঙ্কা চাষিদের মধ্যে

পটুয়াখালী আমন ধানে পোকামাকড়ের আক্রমণ তীব্র বিপর্যয়ের আশঙ্কা চাষিদের মধ্যে
পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধি মোঃ রুবেল হোসাইন
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় আমন ধানে অস্বাভাবিক হারে পোকার আক্রমণ দেখা দেওয়ায় ক্ষতির আশঙ্কায় রয়েছেন কৃষকেরা। উপজেলার বগা,কনকদিয়া, কালিশুরি,কালাইয়া কেশবপুরসহ বিভিন্ন গ্রামের বিস্তীর্ণ সবুজ ধান ক্ষেতের পাতা হলুদ হয়ে ঝলসে যাওয়ার ঘটনায় কৃষকদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
সরেজমিনে মাঠপর্যায়ে ঘুরে দেখা গেছে, বহু এলাকায় পাতা মোড়ানো পোকা এবং ঝলসানো পোকা ধানের গাছের কচি অংশ নষ্ট করছে, ফলে ফলন কমে যাওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে বলে জানিয়েছে কৃষকেরা। উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষকরা জানান, গত সপ্তাহ থেকেই পাতা মোড়ানো ও গাছ শুকিয়ে ফেলার পোকা ধানের গাছে আক্রমণ শুরু করেছে।
কালাইয়ার গ্রামের কৃষক আলতাফ জোমাদ্দার (৬০) বলেন, গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে তার জমির একটি অংশ ঝলসে গেছে। তিনি বলেন, ‘পাতা আগে হলুদ হয়ে শুকিয়ে যাচ্ছে, পরে শিষ নষ্ট হচ্ছে। ওষুধ দিয়েছি, কিন্তু তেমন কোনো ফল পাচ্ছি না।’ তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এভাবে চলতে থাকলে মৌসুমের উৎপাদন অর্ধেকে নেমে আসবে।
একই গ্রামের ইউসুফ জোমাদ্দার (৬৫) বলেন, বিভিন্ন দোকান থেকে তিন ধরনের ওষুধ কিনে ছিটিয়েছি। কিন্তু উল্টো পাতা আরও শুকিয়ে যাচ্ছে। কোনটা ব্যবহার করতে হবে, সে বিষয়ে সঠিক পরামর্শ পাচ্ছি না। তিনি জানান, বাজার থেকে পরামর্শ ছাড়াই ওষুধ নেওয়ার ফলে অনেকেই ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
শাপলাখালী গ্রামের কৃষক মকবুল (৫৫) জানান, উঁচু জমির ধানের গাছ আক্রান্ত হওয়ার হার বেশি। গাছের মাথা শুকিয়ে যাচ্ছে। এখনই ব্যবস্থা না নিলে ফলন কমে যাবে। ধানের শিষে পোকা ঢুকে পড়লে আর কোনোভাবেই ফসল রক্ষা করা যাবে না।
করিম মিয়া অভিযোগ করে বলেন, কৃষি কর্মকর্তারা মাঠে এলে সঠিক পরামর্শ পাওয়া যেত। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, আক্রান্ত গাছের সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে। ফসল পাকতে আর বেশি সময় নেই। এর মধ্যে যদি পোকা আরও ছড়ায়, তাহলে বড় ধরনের ক্ষতি হবে। দ্রুত সরকারি সহায়তা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে বাউফল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মিলন বলেন, আমন ধানে পোকার আক্রমণের বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, ‘মৌসুমি আবহাওয়ার পরিবর্তন, উচ্চ আর্দ্রতা ও তাপমাত্রার ওঠানামার কারণে পোকা দেখা দিতে পারে। তবে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা নিয়মিত তদারকি করছেন।’
কৃষি কর্মকর্তা আরও বলেন, আক্রান্ত গাছ চিহ্নিত হলে অনুমোদিত কীটনাশক সঠিক মাত্রায় প্রয়োগ করা, আক্রান্ত পাতা হাতে না ধরা এবং আক্রান্ত গাছ পর্যবেক্ষণে রাখা জরুরি। আমাদের টিম প্রস্তুত আছে। কৃষকদের যেকোনো প্রয়োজনে উপজেলা কৃষি দপ্তরে যোগাযোগের আহ্বান জানান এই কর্মকর্তা।

