
এস এম শামীম আহমেদ পটুয়াখালী প্রতিনিধি।
পটুয়াখালীর গলাচিপায় অটো চালকের অসর্তকতার কারণে একটি পরিবার হারিয়েছে তাদের চার বছরের শিশু পুত্র দিগন্তকে। ১ফেফ্রয়ারী শনিবার সকাল ৯ টার দিকে উপজেলার বকুল বাড়িয়া ইউনিয়নের পাতাবুনিয়া গ্রামে এ দূর্ঘটনাটি ঘটে। হিন্দু সম্প্রদায়ের গরীব পরিবার হওয়ায় চেয়ারম্যানের সহযোগিতায় ও স্থানীয় প্রভাব খাটিয়ে মিমাংসা করার চেষ্টা চালানোর অভিযোগ উঠেছে।
কোন প্রকার একাডেমিক প্রশিক্ষণ ছাড়াই জীবিকার তাগিদে নয় শখের বসে হরহামেশাই মানিক বিশ্বাসের বড় ছেলে তাইজুল বিশ্বাস (১৩) অটো নিয়ে সড়কে বের হওয়ার অভিযোগ রয়েছে । কানে হেডফোন দিয়ে গান শুনে গাড়ি চালিয়ে যাচ্ছিলেন তাইজুল। হঠাৎ মায়ের সাথে থাকা শিশু দিগন্তর সামনে ব্রেক করলে ভয়পেয়ে লাফ দিলে গাড়ির চাকার নিচে চলে যায় শিশু দিগন্ত।
তাৎক্ষণিক উদ্ধার করে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পথে শিশুটির মৃতু হয় বলে চিকিৎসক বিষয়টি নিশ্চিত করেন। অসর্তকতা ও একটি ভুলে একটি পরিবার হারিয়েছে শিশু পুত্র দিগন্তকে। জেলার গলাচিপা উপজেলায় তাইজুলের হাতেই চার বছরের শিশু দিগন্তের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
নিজাম খান ও তসলিম খানের উপস্থিতিতে বর্তমান চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম সহ তাঁর ভাইয়ের ছেলে ফোন আলাপের মাধ্যমে সমঝোতা করেছেন বলে জানায় মৃত দিগন্তের বাবা দীপক। তিনি আরও জানান, এলাকায় তাদের বসবাস করতে হবে তাই সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের স্বীদ্ধান্ত মানতে হয়।
সমঝোতা সমন্নয়ক এক এলাকাবাসী বলেন, মিশে গেছে সবাই, কেচ-মামলায় যাবেনা। মামলায় গেলে এই ছেলে তো আর ফিরে আসবেনা। মামলা মকর্দমা করে আর হবে কি দুই পক্ষের ক্ষতি। তাকে সর্তক করে বলতে হবে তুমি আর গাড়ি চালাবেনা।
ঘাতক তাইজুল বিশ্বাস উপজেলার বকুল বাড়িয়া ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা এবং নিহত দিগন্ত উক্ত ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা।
মুঠোফোনে ইউপি চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলামকে মিলমিশের সক্ষতা নিয়ে জানতে চাইলে তিনি প্রথমে উত্তেজিত হয়ে যায়। পরে এলাকাবাসী ও দু’জন পুলিশের উপস্থিতিতে মিলমিশের বিষয়টি স্বীকার করেন। এছাড়া এ বিষয়ে তার কোন মন্তব্য নেই বলে জানান।
গলাচিপা থানার অফিসার ইনচার্জ আশাদুর রহমান জানান, মৃত শিশু দিগন্তের বাবা বাদী হয়ে এজাহার দায়ের করেন। সড়ক পরিবহন আইনে মামলা নেওয়া হয়েছে। তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।