অধ্যাপক জয়নাল আবেদীন ভিপি— ফেনী-২ এ শান্তি, উন্নয়ন ও নীতিনিষ্ঠ নেতৃত্বের প্রতীক
136

মোহাম্মদ হানিফ ফেনী সদর প্রতিনিধি

ফেনী-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক জয়নাল আবেদীন ভিপি নিয়ে কখনো কখনো সমালোচনা শোনা যায়— তাঁর মেয়াদকালে নাকি এলাকার কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি। তবে স্থানীয়দের একাংশ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ধারণা বাস্তবতার সঙ্গে যায় না। বরং শান্তির রাজনীতি প্রতিষ্ঠা, দৃশ্যমান উন্নয়ন এবং নীতিনিষ্ঠ ব্যক্তিত্ব হিসেবে তিনি ফেনী-২ এলাকায় রেখে গেছেন গুরুত্বপূর্ণ ছাপ।শান্তির রাজনীতি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকাএক সময় রাজনৈতিক সহিংসতার কারণে ফেনীকে ‘লেবানন’ নামে অভিহিত করা হতো। হামলা, প্রতিহিংসা ও দখলদারিত্ব ছিল রাজনৈতিক দৈনন্দিন বাস্তবতা।বিএনপিতে যোগ দেওয়ার পর অধ্যাপক জয়নাল আবেদীনের বাড়ি ও গাড়িতে হামলা, অগ্নিসংযোগসহ বিভিন্ন হয়রানির শিকার হয়েছেন বলেও জানা যায়।তবে ক্ষমতার দায়িত্বে থেকেও তিনি প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করেননি। বরং সহনশীলতা,সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের মাধ্যমে তিনি ফেনীতে সহিংসতার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করেন। রাজনৈতিক পরিবেশে তাঁর এ অবদান এলাকাবাসীর কাছে আজও উল্লেখযোগ্য।চুপচাপ থেকে করা দৃশ্যমান উন্নয়ন অধ্যাপক জয়নাল আবেদীন শুধু বক্তব্যে নয় বরং বাস্তব কাজের মাধ্যমে উন্নয়নের ধারাকে এগিয়ে নিয়েছেন বলে তাঁর সমর্থকদের দাবি। তাঁর মেয়াদে ফেনীতে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান স্থাপন ও উন্নয়নমূলক কাজ সম্পন্ন হয়।উল্লেখযোগ্য উন্নয়নসমূহ—বন্ধ থাকা ফেনী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট পুনরায় চালু ফেনী কম্পিউটার ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা, ফেনী গার্লস ক্যাডেট কলেজ স্থাপন সদর হাসপাতাল ১৫০ থেকে ২৫০ শয্যায় উন্নীতকরণ ট্রমা সেন্টার নির্মাণ, জেলা জিমনেসিয়াম নির্মাণ ফেনী শহরের সড়ক প্রশস্তকরণ ও আধুনিকায়ন ২০০১–২০০৬ মেয়াদে জেলার তিনটি আসনের মধ্যে ফেনী-২ এ সবচেয়ে বেশি দৃশ্যমান উন্নয়ন হয়েছে বলেও তাঁর সমর্থকরা উল্লেখ করেন।সৎ ও নীতিনিষ্ঠ নেতৃত্বের উদাহরণরাজনৈতিক মহলে অধ্যাপক জয়নাল আবেদীনকে একজন সৎ, পরিষ্কার ও নীতিগতভাবে দৃঢ় রাজনীতিবিদ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) থেকে ক্লিন সার্টিফিকেট প্রাপ্ত জীবনে কখনো কোনো দুর্নীতি বা আত্মসাতের প্রমাণিত অভিযোগ নেই
ব্যক্তিস্বার্থ নয়, ফেনীর স্বার্থকে প্রাধান্য— এমন দৃষ্টিভঙ্গি দীর্ঘদিন ধরে অনুসরণ করেছেন বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এ ধরনের নীতিনিষ্ঠ নেতৃত্ব বিরল বলে অনেকেই মনে করেন।যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও মুক্তিযুদ্ধের গৌরব অধ্যাপক জয়নাল আবেদীনের রাজনৈতিক ও সামাজিক অবস্থান দীর্ঘ পথচলার ফল—তিনবার নির্বাচিত সংসদ সদস্য (১৯৮৮, ২০০১, ২০০৮) মুক্তিযুদ্ধের সময় ফেনী অঞ্চলের জোনাল কমান্ডার
স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের সভাপতিচট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর সোনাইমুড়ি কলেজের সাবেক শিক্ষক বিএনপি চেয়ারপারসনের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টাঅভিজ্ঞতা, শিক্ষা, মুক্তিযুদ্ধের ভূমিকা ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব— সবমিলিয়ে তাঁকে ফেনী-২ এর ‘প্রমাণিত ও ভারসাম্যপূর্ণ’ নেতৃত্ব হিসেবে দেখা হয়।উপসংহার শান্তির রাজনীতি, উন্নয়ন ও সৎ নেতৃত্ব— এই তিন উপাদান অধ্যাপক জয়নাল আবেদীন ভিপিকে ফেনী-২ আসনের এক বিশিষ্ট ও গ্রহণযোগ্য রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে বলে তাঁর সমর্থকরা মনে করেন। এলাকার সার্বিক পরিবর্তনে তাঁর ভূমিকার কথা স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরাও তুলে ধরেন।

Leave a Reply